সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
তেহরান ও জেরুজালেম: ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ৫৪টি ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল বহর নিয়ে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এবারের হামলায় ইরান প্রথমবারের মতো তাদের অন্যতম বিধ্বংসী ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অপারেশন ‘সাদেক প্রমিজ’-এর আওতায় এই হামলা পরিচালিত হয়। অভিযানে খোররামশাহর সুপার-হেভি মিসাইল (যা দ্বৈত ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম), খায়বার-শাখান, কদর ও এমাদ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি চারটি বিশেষ কৌশলগত জ্বালানি চালিত ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি:
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, সেজিল হলো একটি মাঝারি পাল্লার ‘সারফেস-টু-সারফেস’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন; যা ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে উড্ডয়ন করে মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে তেল আবিবে আঘাত হানতে সক্ষম। মূলত ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতেই এই উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথমবারের মতো রণাঙ্গনে নামিয়েছে তেহরান।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া:
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা আরও এক দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করেছে। প্রথম দফার হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই, অর্থাৎ দুই ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে এই নতুন দফার আক্রমণ শুরু হয়। এই হামলার ফলে পুরো ইসরায়েল জুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।